1. bnews786@gmail.com : bdtv.press :
  2. bdtvbd20@gmail.com : Hasan Sha : Hasan Sha
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

হংকং বনাম চীন: এক দেশ দুই নীতির টানাপোড়ন

  • আপডেট: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২০
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

সম্পাদকীয় কলাম 🖋

হংকং পরিচালিত হয় বেসিক আইনের মাধ্যমে। এর অনুচ্ছেদ ১ অনুযায়ী হংকং নামক বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলটি চীন প্রজাতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তবে উক্ত আইনের অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী হংকং এর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। উচ্চ আইনের ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন, আইন প্রয়োগ এবং আইনের বিধান মেনে চূড়ান্ত রায় দেওয়ার মতো নির্বাহী ক্ষমতা, আইনসভা ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা উপভোগ করার অনুমতি দিয়েছে। বর্তমান বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ হংকংকে আন্তর্জাতিক অর্থ ও ব্যবসার কেন্দ্র, শপিং প্যারাডাইস এবং পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চেনে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের পরিচয় সংকট দেখা দিয়েছে। বেইজিং সরকার ধারাবাহিকভাবে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে হংকংয়ের স্বাধীনতার উপর। আর হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী নেতাকর্মীরা চাচ্ছেন যে এই অঞ্চলটি অন্য চীনা শহর থেকে আলাদা থাকবে। তাহলে এখন প্রশ্ন জাগে হংকং কী বাস্তবে একটি  দেশ বা এটি সত্যই কী চীনের একটি অংশ! এ প্রশ্নের উত্তর এত সহজ নয়। হংকংয়ের অনেক কিছুর মতোই এ প্রশ্নের উত্তরও পরিষ্কার নয়।

হংকং- চীনের সম্পর্ক বেশিরভাগ মানুষ যা বুঝতে পারেন তার চেয়ে জটিল। এর মধ্যে রয়েছে হংকংয়ের রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, আইন ও সর্বোপরি জনগণ। হংকংয়ের জনগণ ১৫০ বছর গ্রেট ব্রিটেনের শাসন ব্যবস্থার অধীনে থাকায় এর প্রভাব এবং পদ্ধতি দ্বারা অভ্যস্থ বছরের পর বছর। তারা কোনোভাবেই চাইছে না চীনের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে অভ্যস্ত হোক। তাই তারা সতর্ক রয়েছে যে চীন কোনভাবে যেন তাদের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বিষয়গুলিতে হস্তক্ষেপ না করুক। মেইনল্যান্ড চীন এবং হংকং একে অপরকে অর্থনৈতিকভাবে পরিপূরক। তবে, তাদের রাজনৈতিক পার্থক্য বিদ্যমান। শতাব্দী ধরে তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করেছে এক ধরনের শূন্যতা ও পার্থক্য। সরকারীভাবে চীন ও হংকং এক দেশ হলেও সহজেই এ পার্থক্য পূরণ করা যায় না। সেজন্য হংকং পরিচালনার মূলনীতি হচ্ছে ‘এক দেশ দুই নীতি:। চীন যদি হংকংকে মূল ভূখণ্ড চীনের সাথে সত্যিই একত্রিত করতে চায় তাহলে আগে  অবশ্যই  তাদের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য কাটিয়ে উঠতে হবে।

চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে হংকংয়ের বিচ্ছিন্নতার মূল বুঝতে গেলে একটু ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হবে। গ্রেট ব্রিটেন এবং চীন মধ্যে ১৮৩৯– ১৮৬০ এর আফিম যুদ্ধগুলোর ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। চীন ও গ্রেট বৃটেনের এই সামরিক ও বাণিজ্য সংঘর্ষের সময় হংকং দ্বীপ এবং কাউলনের একটি অংশ গ্রেট ব্রিটেন চিরস্থায়ীভাবে দখল করে। ১৮৯৮ সালে ব্রিটেন হংকংয়ে উপনিবেশ সম্প্রসারণের জন্য চীনের সাথে আলোচনা করে এবং  চীনের সাথে ৯৯ বছরের ইজারা চুক্তি সম্পাদন করে।ঐ ইজারা চুক্তি ১৯৯৭ সালে শেষ হয়েছিলো। ব্রিটেন আর চুক্তির মেয়াদ না বাড়িয়ে ব্রিটেন হংকংকে একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (এসএআর) হিসাবে চীনের কাছে হস্তান্তর করে। এক দেশ, দুই ব্যবস্থা এ মতবাদের অধীনে চীন তার প্রাক্তন উপনিবেশকৈ  নিজের শাসন চালিয়ে যেতে এবং পরবর্তী ৫০ বছর স্বাধীন ব্যবস্থা বজায় রাখার অনুমতি দেয় হংকংয়ের বেসিক আইন। এ সকল বিষয়ের কারণে হংকং চীন থেকে আলাদা। হংকংয়ে রয়েছে স্বায়ত্তশাসন। সরকারী ভাষাগুলির মধ্যে একটি হ’ল ইংরেজি।

চীন সরকারীভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন হিসাবে পরিচিত পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল। চীন কমিউনিস্ট পার্টি অফ চায়না দ্বারা পরিচালিত, যার অধীনে ২২ টি প্রদেশ, পাঁচটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, চারটি প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রিত পৌরসভা ছাড়াও হংকং ও ম্যাকাও নামক দু’টো বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল রয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। চীনের মূল ভূখণ্ডটি এবং হংকংয়ের মধ্যে সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হল মূল ভূখণ্ডটি একটি একক রাজনৈতিক দল  কমিউনিস্ট পার্টি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তবে হংকংয়ে রয়েছে সীমিত গণতন্ত্র।  চীনের রাষ্ট্রপতি তাদেরও রাষ্ট্রপ্রধান।  তবে প্রত্যেকের নিজস্ব সরকার প্রধান রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী প্রধান ভূখণ্ড চীনের প্রধান, আর প্রধান নির্বাহী হংকংয়ের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চলের প্রধান। প্রধান নির্বাহী কেন্দ্রীয়  সরকার ও হংকংয়ের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সর্বোচ্চ দু’মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। হংকং পরিচালনার বেসিক আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত পৃথক ব্যবস্থা ও অধিকার থাকা সত্ত্বেও মূল ভূখণ্ডের চীনা সরকার স্থানীয় হংকংয়ের রাজনীতিতে নিজেদের জোর খাটিয়ে আসছে অনেক আগেই। ২০১৪ সালে প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের জন্য চীনের প্রস্তাবিত সংস্কারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রত্যক্ষ করেছে সারা দুনিয়া। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল যে কেবলমাত্র সেই সকল প্রার্থী যারা চীনের স্বার্থ রক্ষা করবে তারা নির্বাচনের অংশগ্রহণের অনুমতি পাবে। হংকংয়ের রয়েছে নিজস্ব আইনী ও বিচার ব্যবস্থাও। রয়েছে নিজস্ব পুলিশ বাহিনীসহ এবং সরকারী কর্মচারী যা ব্রিটিশ সাধারণ আইন মডেলের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এছাড়াও জায়গা জমি ও বিয়ে-শাদীতে হংকং চীনা প্রথাগত আইন মেনে চলে।

সামরিক এবং কূটনীতি ক্ষেত্রে হংকংয়ের তেমন কোনো ক্ষমতা নেই। একটি স্বাধীন দেশের দুটি মূল ক্ষেত্র যেমন প্রতিরক্ষা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মত গুরুত্বপূর্ণ এই দুটির দায়িত্ব অর্পিত হয় মূল ভূখণ্ড চীনের উপর।  হংকংয়ের নিজস্ব সামরিক বাহিনী নেই- সামরিক প্রতিরক্ষার দায়িত্ব চীন পরিচালনা করে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে হংকংয়ের মূল ভূখণ্ড চীন থেকে আলাদা কোনো পরিচয় নেই। উদাহরণস্বরূপ, জাতিসংঘ সুরক্ষা কাউন্সিল, বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলন, জাতিসংঘের বিভিন্ন গ্রুপ,জি ২২তে হংকংয়ের স্বতন্ত্র প্রতিনিধিত্ব নেই। তবে, হংকং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, এবং জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার মতো নির্বাচিত আন্তর্জাতিক সংস্থার ইভেন্টগুলিতে অংশ নিতে পারে যদিও কোনও সদস্য রাষ্ট্র হিসাবে নয়।  বিদেশী দেশগুলির হংকংয়ে কনসুলেট অফিস থাকতে পারে তবে তা মূল ভূখ চীনে তাদের দূতাবাসগুলির নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে। তবে হংকংয়ের নাগরিকের রয়েছে আলাদা পাসপোর্ট। চীনের নাগরিক হংকংয়ে আসছে ও হংকংয়ের নাগরিক চিনে যেতে উভয়কেই আগে ভিসা নিতে হবে। হংকংয়ে ভ্রমণকারী বিদেশী পর্যটকরা চীনে প্রবেশের আগে আলাদা ভিসা নিতে হয়।

কর এবং অর্থের মধ্যে পার্থক্যও রয়েছে হংকং ও চীনের মধ্যে। চীনে মূলত সমাজতন্ত্র এবং পুঁজিবাদের সহাবস্থান হয়েছে। হংকংয়ে রয়েছে মুক্তবাজার অর্থনীতি মুক্ত উদ্যোগ ব্যবস্থা এবং  স্বতন্ত্র অর্থায়ন রয়েছে। হংকংয়ের অর্থনীতি হ’ল একটি উচ্চ উন্নত মুক্ত-বাজার অর্থনীতি যা কম কর, প্রায় মুক্ত বন্দর বাণিজ্য এবং সু-প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। চীনের কোন কর আইন হংকং এর উপর কার্যকর নয়। এক কথায় অর্থনৈতিক বিবেচনায় হংকং অনেকটা স্বাধীন। অর্থ, বাণিজ্য, শুল্ক এবং বৈদেশিক মুদ্রা সম্পর্কিত হংকংয়ের রয়েছে নিজস্ব নীতি। মুদ্রাতেও রয়েছে পার্থক্য।  হংকংয়ের নিজস্ব ডলার ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের সাথে সংযুক্ত করে এক্সচেঞ্জ রেট সিস্টেমের আওতায় আনা হয়েছে। চীন ইউয়ান ব্যবহার করে। হংকংয়ের বণিকরা নির্দ্বিধায় ইউয়ান গ্রহণ করে না। হংকংয়ের মাথাপিছু জিডিপি চীনের তুলনায় অনেক বেশি। তদুপরি চীন ও হংকংয়ের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা। তাদের মধ্যে দৃঢ় অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, একে অপরের অর্থনীতিতে উৎসাহ জোগায়।মেইনল্যান্ড চীন হংকংয়ের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং অভ্যন্তরীণ সরাসরি বিনিয়োগের জন্য এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস। হংকং চীনের কাছে একচেটিয়া পরিষেবার প্রধান সরবরাহকারী। তবে সম্প্রতি অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাড়ার সাথে সাথে হংকংয়ের অর্থনীতি হ্রাস পাচ্ছে বলে মনে করা হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হংকংয়ের অনেকেই তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং নগরীর রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে দখল করার জন্য বেইজিংয়ের প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে, যা ২০১২ সালে ব্যাপক প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে। চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় আশঙ্কা করা হচ্ছে যে হংকংয়ের উল্লেখযোগ্য স্বায়ত্তশাসন বিঘ্নিত হতে পারে। এক দেশ, দুই ব্যবস্থা ১৯৮০-এর দশকে জিয়াওপিংয়ের দ্বারা নির্মিত একটি জাতীয় একীকরণ নীতি।  ধারণাটির উদ্দেশ্য তাইওয়ান, হংকং এবং ম্যাকাওকে সার্বভৌম চীনের সাথে পুনরায় সংহত করতে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের অনন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও যেন সংরক্ষিত থাকে সে উদ্দেশ্যে এ নীতি তৈরি করা হয়েছিল। হংকংয়ের উপনিবেশিক শাসনের দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পরে ব্রিটিশ সরকার ১৯৯৭ সালে হংকংকে ফিরিয়ে দেয় চীনের কাছে এই নীতির আলোকে।  পর্তুগাল ১৯৯৯ সালে ম্যাকাওকে ফিরিয়ে দেয়  এবং তাইওয়ান স্বাধীন থাকে। ১৯৮৪ সালের চীন-ব্রিটিশ যৌথ ঘোষণাপত্রের শর্তের আলোকে হংকংকে চীনে প্রত্যাবর্তন কার্যকর করেছিল। ঘোষণাপত্র এবং হংকংয়ের বেসিক আইন, নগরীর সাংবিধানিক দলিল, নগরটির পুঁজিবাদী ব্যবস্থা এবং জীবনধারা সজ্জিত করে এবং পঞ্চাশ বছরের জন্য নির্বাহী, আইনসভা ও স্বাধীন বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা সহ উচ্চতর স্বায়ত্তশাসন মঞ্জুর  করা হয়েছিল। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কর্মকর্তারা মূল ভূখণ্ডের প্রদেশ এবং পৌরসভাগুলির মতো হংকংয়ে সভাপতিত্ব করেন না, তবে বেইজিং এখনও এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তারকারী অনুগতদের মাধ্যমে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে। বেইজিং হংকংয়ের বেসিক আইনকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করার কর্তৃত্বও বজায় রেখেছে। বেসিক আইনের আওতায় হংকংয়ের সংবাদপত্র, মত প্রকাশ, সমাবেশ এবং ধর্মের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা পেয়েছে তবে বাস্তবে বেইজিং সাম্প্রতিক সময়ে এগুলোর উপর হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।  হংকংয়ে ব্রিটেনের সর্বশেষ গভর্নর ক্রিস প্যাটেনও চীনা নিয়ন্ত্রণে হংকংকে রেখে গেলে এই অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন ঝুঁকিপূর্ণ হবে এ বিষয়ে তিনি সতর্ক ছিলেন। তবে, তৎকালীন একটি দেশ, দুই ব্যবস্থা চুক্তিটি সেই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভাল ফলাফল হতে পারে বলে বিবেচনা করা হয়েছিলো। এখন বাইশ বছর পর, এ নীতি কার্যকরের ৫০ বছরের পরিকল্পনার অর্ধেক সময় যেতে না যেতে, এটি স্পষ্ট যে ১৯৯৭ সালের বৃটেনের সর্বশেষ গভর্নরের কল্পনা অনেকটা সত্যে পরিণত হচ্ছে।

আসলে হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী দের সাথে বেইজিংয়ের দূরত্ব বাড়ার মৌলিক কারণ হচ্ছে হংকংয়ের প্রধান নিবার্হী নির্বাচন নিয়ে। হংকংয়ের বেসিক আইন অনুসারে হংকংয়ের পার্লামেন্ট স্বাধীন। পার্লামেন্টে বর্তমানে ১,২০০ সদস্যের নির্বাচন কমিটি দ্বারা ৭০জন সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকে। তবে প্রতিনিধিদের বেশিরভাগই বেইজিংপন্থী হিসাবে দেখা হয়। হংকংয়ের ক্ষুদ্র সংবিধান, বেসিক আইন অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতি অনুসারে একটি বিস্তৃত প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রধান নিবার্হী মনোনয়নের কথা বলা থাকলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে সার্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রধান নির্বাহী নির্বাচন করা। চীন সরকার ২০১৫ সালের মধ্যে প্রধান নির্বাহীর জন্য সরাসরি নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে আগস্ট ২০১৪-এ চীনের শীর্ষ আইনসভা কমিটি রায় দিয়েছে যে ভোটাররা কেবল মনোনীত কমিটি দ্বারা নির্বাচিত দুই বা তিন প্রার্থীর তালিকা থেকে তাদের প্রধান নিবার্হী নির্বাচিত করতে পারবেন। আর ১২০০ সদস্যের এই মনোনীত কমিটির বেশিরভাগ সদস্য বেইজিং পন্থী। তাই মোদ্দা কথা হলো হংকংয়ের প্রধান নিবার্হী নির্বাচনের যে তিন সদস্য মনোনীত করার কথা বলা হয়েছে তা মূলত বেইজিংপন্থী নির্বাচন কমিটি অনুসারে এই কমিটি গঠিত হবে। ২০১৫  সালের মধ্যে জনগণের সরাসরি ভোটে প্রধান নির্বাহী নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থেকে বেইজিং সরকার সরে যায়। হংকং সরকারও বেইজিংকে খুশি করার জন্য একটি নির্বাচনী সংস্কার প্যাকেজ উপস্থাপন করে। বেইজিং সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হংকং-এ গণতন্ত্র পন্থী গোষ্ঠীগুলো, শিক্ষাবিদ, ছাত্র সংগঠন কঠোর আন্দোলন শুরু করে।

আন্দোলনকারীরা হংকংয়ের সেন্ট্রাল দখল করে ২০১৪ সালের জুনে রাজনৈতিক সংস্কার সম্পর্কিত একটি অনানুষ্ঠানিক গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। ১০ দিন ধরে চলে এ ভোট। গণভোটের মাধ্যমে অধিকাংশ জনগণ প্রধান নির্বাহী জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে রায় দেন। তবে হংকং ও বেইজিং সরকার বলেছে যে এ ভোটের কোনও আইনগত অবস্থান নেই। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও সেন্ট্রাল দখলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা চান কিন-ম্যান এই ভোটদানের প্রশংসা করেছেন এবং গণভোটকে সফল বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছিলেন যে আমি বিশ্বাস করি হংকংয়ের জনগণের মনে হয় যে আমাদের স্বায়ত্তশাসন হুমকির মুখে পড়েছে এবং বেইজিং হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসনকে আরও হুমকির মুখে ফেলেছে। অনেকেই দাবী করেছেন যে হংকংয়ের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ চীনা সরকারের সংস্কারের পরিকল্পনায় অসন্তুষ্ট।

ড. মো. কামাল উদ্দিন, প্রফেসর, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© স্বর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।
এই ওয়েবসাইটের লেখা, ছবি, ভিডিও
অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।
নির্মাতা বিডি